জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ সেবায় বছরে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও ভাড়ায় পরিচালিত বাসগুলোর মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ফিটনেসবিহীন বাস, জরাজীর্ণ আসন, ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকিং সিস্টেম এবং ছারপোকার উপদ্রবে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহন করতে হচ্ছে।
বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও নিম্নমানের সেবা
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবহণ খাতে প্রতি মাসে প্রায় ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা এবং প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। তবুও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহণ সেবা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মোড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ভাড়ায় চালিত বাসের ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। পরিস্থিতি বুঝে চালক কৌশলে বাসের গতি কমিয়ে আনেন। পরে হেলপার দ্রুত নেমে চাকার নিচে ইট দিয়ে বাসটি থামালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা আনজুম মিম বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই বাসের ব্রেকিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় মাঝপথে বাস বিকল হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ক্লাস কিংবা পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসের আসন ভাঙাচোরা ও অপরিচ্ছন্ন। সিটের ফাঁকফোকর এবং বাসের বিভিন্ন অংশে ছারপোকার উপদ্রব থাকায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী গালিব হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস হলেও এগুলোর অবস্থা অনেকটা লোকাল বাসের মতো। জানালার কার্নিশসহ বিভিন্ন স্থানে ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাসের সংখ্যা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৯টি এবং ভাড়ায় পরিচালিত ৮টি বাস রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে নতুন বাস কেনার উদ্যোগ নিলে পরিবহণ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ পুলের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) মো. আল-আমিন বলেন, ভাড়ায়চালিত বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাস ভাড়া নেয়। কোনো বাস নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা পরিবহণ প্রশাসকের কাছে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরিবহণ প্রশাসকের পরিকল্পনা
পরিবহণ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টেন্ডারের মাধ্যমে ভালো মানের বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খোঁজা হলেও নির্ধারিত শর্ত ও ভাড়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে বিআরটিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তাদের কাছ থেকে ৯টি বাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।



