পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণ করেছে মিরপুর বন্ধুসভা। ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে গত ২৫ জুন রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
উদ্বোধন ও বক্তব্য
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ বি এম আবদুর রাজ্জাক এবং প্রধান শিক্ষক আহমাদ হোসাইন। তাঁরা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান বৃক্ষ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ যেমন মানুষের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁরা বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, প্রতিটি গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
চারা বিতরণ ও সহযোগিতা
এদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন বন্ধুরা। গাছ দিয়ে সহযোগিতা করেছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শাখা প্রধান (বালক) গোলাম মোস্তফা আকন্দসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
মিরপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সবুজ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে গাছ লাগাবে এবং তার যত্ন নেবে—এই প্রত্যাশা থেকেই আমাদের এ উদ্যোগ।’
মিরপুর বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমন্বয়ক তানিয়া হক বলেন, ‘বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না; বরং অক্সিজেন সরবরাহ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।’



