কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে এক শিক্ষক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আবদুল্লাহপুর হাজি আমীর উচ্চবিদ্যালয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা প্রকাশ পায়।
অভিযোগের বিবরণ
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নিজে মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে মার্কিং করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই শিক্ষার্থীকে খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই ছাত্রের এক বন্ধু তাকে বলে, ‘বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।’ জবাবে শিক্ষার্থী বলে, ‘এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও দিত না।’
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
স্থানীয় রোকনুজ্জামান খান বলেন, বোর্ড পরীক্ষার খাতার মতো স্পর্শকাতর কাজে শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা উচিত নয়। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস ও দেবীদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডও তদন্ত করবে। তদন্তের আগে মন্তব্য করব না।’
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘স্থানীয়রা আবেদন করেছেন। আমাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
অভিযুক্ত শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।



