বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই কারিকুলামের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা।
নতুন শিক্ষাক্রমের বৈশিষ্ট্য
নতুন শিক্ষাক্রমে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। এছাড়া কারিকুলামে যোগ করা হয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো বিষয়।
বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
শিক্ষাবিদরা বলছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি। দেশের ৪০% স্কুলে এখনও পর্যাপ্ত ডিজিটাল সরঞ্জাম নেই। এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে নতুন পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, 'শিক্ষকদের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে নতুন শিক্ষাক্রম সফল হবে না। তাদের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।'
সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ
যদি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়, তাহলে এই শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে। ইতিমধ্যে ২০২৩ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাইলটিং শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাক্রমের আওতায় ২০২৪ সালে প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। তবে সঠিক বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আরও বাজেট বরাদ্দ ও নীতি সহায়তা দিতে হবে।



