প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী তহবিলের সাবেক শিক্ষার্থী মো. মাহামুদুল হাসান বর্তমানে করপোরেট জগতে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। শৈশবে মা হারিয়ে, নানির কাছে বেড়ে ওঠা এই তরুণ এখন টেনস এগ্রো লিমিটেডে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। তার জীবনের গল্প শুনলে যে কেউ অনুপ্রাণিত হবেন।
শৈশবের সংগ্রাম
মাহামুদুল হাসানের জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মা মারা যান। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে তিনি নানির কাছে বড় হন। ৬৫ বছর বয়সী নানি দিনমজুরের কাজ করে তাকে মানুষ করেন। মাহামুদুল নিজেও অন্যের জমিতে কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।
শিক্ষাজীবনের অধ্যায়
২০১৩ সালে কামারপুকুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন, যেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার সেশন ফি ও পরীক্ষার ফি মওকুফ করে দেয়। ২০১৫ সালে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০১৭ সালে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী তহবিল তাকে সহায়তা করে।
করপোরেট জগতে প্রবেশ
২০২২ সালে গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার পর নানি ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং ২০২৩ সালে মারা যান। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মাহামুদুল অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে সরকারি চাকরির স্বপ্ন সরিয়ে রেখে করপোরেট সেক্টরে যোগ দেন। প্রথমে এসিআই গ্রুপে এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২৫ সালে টেনস এগ্রো লিমিটেড তাকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মাহামুদুল হাসানের স্বপ্ন একদিন বড় কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিইও বা এমডি হওয়া। তিনি বলেন, 'যে ছেলেটি গ্রামে দিনমজুরি করে বড় হয়েছে, সে যদি চেষ্টা করে তবে একদিন অবশ্যই বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।'
অনুপ্রেরণামূলক বার্তা
অদম্য মেধাবীদের উদ্দেশ্যে মাহামুদুল বলেন, 'কোনো অবস্থাতেই দমে যাবেন না। অভাব হয়তো সাময়িক, কিন্তু পরিশ্রমের ফল চিরস্থায়ী।' প্রথম আলো ট্রাস্টের নাজিম ভাইয়া ও মাহবুবা আপুরা সব সময় তাকে উৎসাহ দিয়েছেন, 'তোমরা আলোর পথের যাত্রী, তোমাদের থেমে যাওয়া চলবে না।'



