চবিতে ছাত্রদল নেতার দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা, পরে ক্ষমা চাওয়া
চবিতে ছাত্রদল নেতার দোকান ভাঙচুর, পরে ক্ষমা চাওয়া

চবিতে ছাত্রদল নেতার দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একটি টং দোকানের ক্যাশ টেবিল ভাঙচুর ও দোকান মালিককে মারধরের ঘটনায় জড়িত হয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী। পরে তিনি ওই দোকানির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর ও মারধরের শিকার হওয়া দোকানির নাম এইচ এম সুজন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে টং দোকান চালানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়েও কর্মরত আছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়িতে অবস্থিত ওই টং দোকানে ছাত্রদল নেতা জালাল সিদ্দিকীর নামে ৩০ টাকা বাকি খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, এ বাকির বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ওই দোকানির কাছ থেকে ভিডিও বক্তব্য নেন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন জালাল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিডিও বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা

কেন ভিডিও বক্তব্য দিলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল টং দোকানের ক্যাশ টেবিল ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি দোকানির মুখেও আঘাত করেন তিনি। এ বিষয়ে টং দোকানি সুজন সরাসরি মন্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, বাকি খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা জালাল সিদ্দিকী তার ক্যাশ টেবিল ভাঙচুর করেন এবং তার মুখে আঘাত করলে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয়।

জালাল সিদ্দিকীর বক্তব্য

ভাঙচুর ও মারধরের বিষয়ে জালাল সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি নাকি ৩০ টাকা বাকি খেয়েছি— এটা হৃদয় (শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক) বারবার ওই দোকানে গিয়ে ভিডিও করেছে। এটা শোনার পর আমি সেখানে গিয়ে দোকানির কাছে জানতে চাই। তখন সে বলে, ‘আমি আপনার নাম বলিনি, অন্য জালালের নাম বলেছি।’ পরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আমি ক্ষমা চেয়েছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের প্রতিক্রিয়া

দোকানির কোনো ভিডিও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘আমি ওই টং দোকানে গেলে সুজন নামের দোকান মালিক আমাকে বলেন, ‘আপনার দলের নেতাকর্মীরা বাকি খেয়ে টাকা দেয় না।’ তখন আমি তাকে বলি, ৫ আগস্টের পর এটা সম্ভব না। কে করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জালাল। এরপর আমি কনসার্টে চলে যাই। আমি কারও ভিডিও করিনি। পরে খবর পাই, জালাল ওই দোকান ভাঙচুর করেছে। এটি কখনো কাম্য নয়।’

এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।