কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রশাসন ভবনে তালা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার দাবিতে বিক্ষোভ, তালা লাগানো

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার দাবিতে উত্তাল বিক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া (রুনা) হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার দুপুরে এই বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যা উপাচার্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে তোলে।

বিক্ষোভের উত্তেজনাময় দৃশ্য

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা ‘রশি লাগলে রশি নে, খুনিদের ফাঁসি দে’, ‘প্রশাসনের অনেক গুণ, দিনদুপুরে মানুষ খুন’, ‘আমার ম্যাম কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা আসমা সাদিয়া হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার, শিক্ষকের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ, একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, একটি হলের নামকরণ এবং বিভাগের সংকট নিরসনের দাবি জানান।

উপাচার্য ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

খবর পেয়ে বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে যান। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ার পর ফটকের তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলুর রহমান এখনো কথা বলতে না পারায় তাঁর জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ধরতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু তাঁদের পাওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিস্তারিত ও আসামিদের অবস্থা

৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মামলায় আসমার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান উল্লেখ করেন, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে কর্মচারী ফজলুর রহমান তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেন। মামলার ২ নম্বর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার, যিনি কিছুদিন আগে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি হয়েছেন। ৩ ও ৪ নম্বর আসামি যথাক্রমে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান, যাঁরা পলাতক রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ জানান, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেবে। বিভাগের শিক্ষকসংকট নিরসনের জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, আসমা সাদিয়ার নামে একটি হলের নামকরণের প্রস্তাব করা হবে, এবং শিক্ষকের পরিবারের জন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত নিরসন করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হলে সাদিয়ার স্বামীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।