জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হালিমে মাছি নিয়ে জাকসু নেতার হামলা, উত্তেজনায় ক্যাম্পাস
জাহাঙ্গীরনগরে হালিমে মাছি নিয়ে জাকসু নেতার হামলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হালিমে মাছি নিয়ে জাকসু নেতার হামলায় উত্তেজনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি খাবারের দোকানে হালিমে মাছি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারকের বিরুদ্ধে কর্মচারীর গায়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মারা ও অন্যজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বেশ কিছু দোকান বন্ধ করে দেন, যা পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এসে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অবস্থিত 'হাবিব হোটেলে' খেতে যান জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক। এ সময় খাবারে মাছি পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানমালিক হাবীবের ছেলে সাহাবুদ্দিনের দিকে হালিম ছুড়ে মারেন। এর আগে দোকানের অন্য এক কর্মচারী বিল্লালের থুতনি চেপে ধরে তাকে জোর করে সেই হালিম খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণের পর বাগবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জাকসু নেতা মোবারক হোটেলের এক কর্মচারীকে লক্ষ্য করে হালিমের বাটি ছুড়ে মারলে তার গায়ে লাগে, এবং অপর কর্মচারীর থুতনিতে আঘাত করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষার্থীরা, যা রাত আটটার দিকে বটতলায় দোকানদারকে প্রতিবাদস্বরূপ দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে প্ররোচিত করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের অবস্থান

ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একটি গ্রুপ অভিযোগ করে বলেন, হুসনী মোবারক ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু খাবারের দোকানগুলোয় প্রভাব খাটিয়ে একরকম পুলিশিং করেন। এ ছাড়া দোকানীদের সাথে তার অসদাচরণ হরহামেশাই দেখা যায় বলে তারা দাবি করেন।

অপর গ্রুপটির দাবি, অভিযুক্তের বিচার হতেই পারে, তবে দোকান বন্ধ করা যাবে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বটতলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা জাকসুর নেতার অসদাচরণের বিপক্ষে ছিলেন, তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যুক্ত হন। অন্যদিকে, জাকসুতে ছাত্রশক্তি থেকে নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে অপর পক্ষের হয়ে অবস্থান নেন।

বিচার ও প্রতিক্রিয়া

ছাত্রদলের পক্ষটি জাকসুর অভিযুক্ত নেতা হুসনী মোবারকের বিচার দাবি করেন, অন্যদিকে জাকসুর কার্যকরী সদস্য চিশতিসহ অন্যরাও দোকান বন্ধ অযৌক্তিক দাবি করে সেগুলো খুলে দিতে বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং গালিগালাজ করতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী কর্মচারী সাহাবুদ্দিন বলেন, "জাকসুর ওই নেতাসহ দুই জন খেতে এসেছিলেন। হালিমে একটি মাছি পাওয়ায় তিনি চিৎকার শুরু করেন। আমার মামা বিল্লালের মুখ চেপে ধরে তাকে ওই হালিম খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মামা সরে গেলে তিনি হালিমের বাটিটি আমার দিকে ছুড়ে মারেন, যা আমার গায়ে পড়ে।"

অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, "আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারে মাছি দেখে প্রতিবাদস্বরূপ বাটিটি ছুড়ে মেরেছি। তাকে শারীরিকভাবে কোনও আঘাত করিনি। খাবারের মান নিশ্চিত করা শুধু জাকসুর একার পক্ষে সম্ভব নয়। কোথাও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।"

জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, "অভিযোগের বিষয়ে আমি জানতে পেরেছি। দোষী প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খাদ্য নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।