রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শেখ মোহাম্মদ আবুল হাসান আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণ ও আহত শিক্ষার্থীর পরিচয়
আহত শিক্ষার্থী শেখ মোহাম্মদ আবুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত নেতার নাম হাসিবুল ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, হাসিবুল ইসলাম ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনার পটভূমি ও পূর্ববর্তী উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও প্রক্টরিয়াল বডি সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে হাসানের এক বড় ভাই তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের চারুকলা এলাকায় বসে ছিলেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত এক প্রহরী তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন, যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ধারণা করেন, প্রহরী কারও নির্দেশে তাঁদের হয়রানি করেছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির বিষয় জড়িত থাকতে পারে।
সন্ধ্যায় হাসানসহ কয়েক শিক্ষার্থী তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিষয়টি জানতে চারুকলায় যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকালই ঘটনাটির সমাধান করা হয়। কিন্তু, ওই ঘটনার জেরে গতকাল রাতে ছাত্রদল নেতা হাসিবের নেতৃত্বে বহিরাগত নিয়ে এসে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী আক্তার বলেন, ‘আমরা জুসের দোকানে বসে ছিলাম। এমন সময় দেখতে পেলাম হাসিব উত্তেজিত হয়ে দৌড়ে আসছে। দেখলাম তারা কথাবার্তা বলছে, পরে একজন উঠে যাওয়ার সময় গলা ধাক্কা দিয়ে মারামারি শুরু করে।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসান বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা হাসিব গতকাল থেকেই বিভিন্নভাবে ফোনে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল। আজ রাতে আমি একটা চায়ের দোকানে বড় ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিলাম। পরে হাসিব বেশ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমার সঙ্গে যারা ছিল, তাদেরও আঘাত করে।’ আহত হওয়ার পর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর ক্ষত স্থানে দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত নেতার প্রতিক্রিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। সেই পয়লা বৈশাখের পর থেকেই অসুস্থ। আজ একটা পরীক্ষা ছিল, সেটা দিয়ে বাসায় চলে আসি। আমি বাসা থেকে ক্যাম্পাসেই যায়নি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখলাম, আমি নাকি কোন শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আহত শিক্ষার্থীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ ছাড়া তাঁরা যদি প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



