ভিসি পদত্যাগ দাবিতে টানা আন্দোলনে অচল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ভিসি পদত্যাগ দাবিতে টানা আন্দোলনে অচল পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী মো. রফিকুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে টানা আন্দোলন, হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ভিসিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, যা সম্প্রতি চরমে ওঠে।

টানা চতুর্থ দিনের অবস্থান

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) টানা চতুর্থ দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

হামলায় ৩০ জন আহত

গত সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের ইন্ধনে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবুল বাশার খান বলেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে বহিরাগতদের এনে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।

কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা

হামলার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আন্দোলনে যুক্ত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। বুধবার দুপুরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়, বাসভবনসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক অস্থিরতা চলছিল, তবে এবার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর।

মামলা ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত বাদী হয়ে দুমকি থানায় ২৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান শুরু করে পুলিশ। শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতে দুমকি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, মামলার ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বহিষ্কার

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের মোট নয়জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একক কর্তৃত্ববাদী প্রশাসন চালানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদায়ন, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও তুলছেন তারা। তাদের দাবি, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দমন করতে বহিরাগতদের ব্যবহার করা হয়েছে।

ভিসির মন্তব্য পাওয়া যায়নি

উপাচার্য ড. কাজী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন না ধরায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

রেজিস্ট্রার ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, বহিরাগত হামলার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।