বগুড়ায় নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নকে জেলার ১৩তম উপজেলা হিসেবে গঠনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রাক-নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সভায় এই প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে অনুমোদন লাভ করেছে।
প্রশাসনিক অনুমোদন ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বগুড়া সফরকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এই ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন উপজেলা গঠনের মাধ্যমে উন্নয়নের আশা প্রকাশ করছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ থেকে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল প্রাক-নিকার সচিব কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ও শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলাকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ মোট আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় মোকামতলা উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়।
মোকামতলা উপজেলার প্রস্তাবিত কাঠামো
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে মোকামতলা উপজেলা গঠনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিয়নগুলো হলো:
- মোকামতলা
- দেউলী
- সৈয়দপুর
- ময়দানহাট্টা
- শিবগঞ্জ সদর
প্রস্তাবিত এই নতুন উপজেলার মোট আয়তন হবে ১২৮.৭৪ বর্গ কিলোমিটার। আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ হতে পারে, যা স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আনুষ্ঠানিকতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এমপি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাক-নিকার সভায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি মোকামতলা উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে মোকামতলা উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে শীঘ্রই এই স্থান নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মোকামতলাকে উপজেলা ঘোষণার জন্য এখনো কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। সরকারি গেজেট প্রকাশ, প্রশাসনিক কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়ায় কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। প্রয়োজনীয় সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মোকামতলা উপজেলা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই উদ্যোগের পটভূমিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি। ২৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে একটি আবেদন জমা দেন। তার আবেদনে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে মোকামতলা ইউনিয়নকে উপজেলায় উন্নীত করার অনুরোধ জানানো হয়।
এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া-২ সংসদীয় আসনের গঠনেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে এই আসনটি শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত, কিন্তু মোকামতলা উপজেলা গঠিত হলে আসনটি শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত হবে। এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন উপজেলা গঠনের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণের জন্য উন্নত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত হবে। এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



