জুয়ায় সর্বস্বান্ত যুবকের দুধ দিয়ে গোসল করে প্রতিজ্ঞা
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে এক যুবক প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের পর এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জাহিদুল ইসলাম (৩৫) নামের ওই যুবকের বাড়ি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহীপুর সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে জাহিদুল ইসলাম নিজের গায়ে দুধ ঢালছেন। এ সময় তিনি বলেন, জুয়া খেলতে গিয়ে তার সংসার ও আর্থিক অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আজ থেকে জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জাহিদুল অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এতে ধীরে ধীরে তার সঞ্চয় ও সম্পদ নষ্ট হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আজ দুপুরে প্রকাশ্যে প্রায় ২০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছেড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, জুয়ার কারণে ছেলেটি সব হারিয়েছে; এখন যদি সত্যিই ফিরে আসে, সেটাই ভালো। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনলাইন জুয়ার প্রভাবে অনেক যুবকই বিপথগামী হচ্ছে।
রহিমা বেগম নামের এক নারী বলেন, প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করা সহজ নয়, তিনি যেন ভালো পথে থাকেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ঘটনা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
জুয়ার বিস্তার ও প্রশাসনের ভূমিকা
বালিঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলায় জুয়া উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার কারণে যুবসমাজ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
পাঁচবিবি থানার ওসি হাফিজ মো. রায়হান বলেন, জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, কেউ জড়িত থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ঘটনা সমাজে জুয়ার ভয়াবহতা এবং অনলাইন জুয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের দিকে আলোকপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুবসমাজকে সচেতন করতে এবং জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার করা উচিত। জাহিদুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।



