সিলেটে মসজিদের নামকরণ নিয়ে সালিসে বাগ্বিতণ্ডা, কিলঘুষিতে এক ব্যক্তি নিহত
সিলেট সদর উপজেলায় মসজিদের নামকরণ নিয়ে জটিলতা নিরসনের জন্য ডাকা সালিসে বাগ্বিতণ্ডার সময় কিলঘুষিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন, যিনি বয়সে পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করেছেন। তিনি উপজেলার মোঘলগাঁও ইউনিয়নের গালিম গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার সময় ও স্থান
গতকাল শুক্রবার বিকেল বেলায় গালিম গ্রামের গালংশাহ মসজিদের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়। স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে সালিসের আয়োজন করা হয়েছিল, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সহিংসতার দিকে মোড় নেয়।
বিরোধের পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে গালিম গ্রামের মসজিদের নামকরণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের মূল কারণ হিসেবে মসজিদের নামকরণ সংক্রান্ত মতবিরোধকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে গতকাল বিকেলে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিসের আয়োজন করা হয়েছিল। সালিসের প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে দুপক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সহিংসতার বিস্তার
একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই সংঘর্ষের সময় কিলঘুষিতে মারাত্মকভাবে আঘাত পান দেলোয়ার হোসেন। ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতের বেলায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে স্থানান্তর করা হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
পুলিশের বক্তব্য
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল হাবীব ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, "মসজিদের নামকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে কিলঘুষিতে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার বেলা একটা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তাঁর মরদেহ আজ দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা আছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মসজিদের নামকরণের মতো ধর্মীয় বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, এমন সহিংসতা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
এই ঘটনা সিলেট বিভাগের সাম্প্রতিক সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



