টানা বৃষ্টি আর ঈদের শেষ মুহূর্তের ঘরমুখো মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে করটিয়া থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে স্বস্তির খবর হলো যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ অংশে যান চলাচল রয়েছে অনেকটাই স্বাভাবিক।
সিরাজগঞ্জ অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক
বুধবার (২৭ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিমপাড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও দীর্ঘস্থায়ী যানজট তৈরি হয়নি। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ দ্রুত বাড়ির পথে ছুটছেন।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
হাটিকুমরুল এলাকায় ট্রাক চালক আব্দুর রউফ বলেন, "সেতুর পূর্বপাড়ে ভয়াবহ যানজট। কিন্তু যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জে এসে দেখি রাস্তা ফাঁকা। এখন গাড়ি ছেড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।"
ঢাকা থেকে ফেরা গার্মেন্টসকর্মী শরীফুল ইসলাম বলেন, "ফেসবুক আর গণমাধ্যমে দেখছিলাম সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট নাই। বিশ্বাস করিনি। কিন্তু সেতু পার হওয়ার পর দেখলাম সত্যিই রাস্তা স্বাভাবিক।"
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভিন্ন চিত্র
অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে ছিল যানবাহন।
সিয়াম পরিবহনের চালক সুমন বলেন, "এক ঘণ্টায় এক কিলোমিটারও এগোতে পারিনি। যাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, অনেকে অসুস্থও হয়ে যাচ্ছে।"
গাজীপুর থেকে নাটোরের যাওয়া পথে কড্ডা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী সুমন খান বলেন, "একদিকে বৃষ্টি, আরেক মানুষের তুলনায় যানবাহন সংকট আর সড়ক ছোট থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাতে গাজীপুর থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর পর্যন্ত ধীরগতি রয়েছে। তবে দুপুরের মধ্যে ক্লিয়ার হবে বলে আশা করছি।"
পুলিশের বক্তব্য
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, "যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে যানবাহন বিকল হওয়ার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেতুর পশ্চিম অংশে চার লেন মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু থাকায় বিপুল চাপও সহজে সামাল দেওয়া যাচ্ছে। সেতু পার হওয়ার পর পশ্চিমাঞ্চলে কোনও যানজট নেই। শুধু ঢাকামুখী লেনে কিছুটা চাপ রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।"
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, "সিরাজগঞ্জ অংশে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।"
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, "ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। শুধু গাজীপুর অঞ্চল থেকেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।"



