আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের ৯৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব স্থানে দুর্ঘটনা ও যানজটের আশঙ্কা থাকায় যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতে মোট ৯৪টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। এসব স্থানে সংকীর্ণ সড়ক, বাঁক, ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশি।
দুর্ঘটনা ও যানজটের কারণ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে ৩২টি স্থানে যানজটের কারণে দুর্ভোগ হতে পারে। এছাড়া ২৮টি স্থানে সড়কের অবস্থা খারাপ, ১৮টি স্থানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নেই, এবং ১৬টি স্থানে সড়ক পারাপারের জন্য দুর্বল ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ, কুমিল্লার ময়নামতি এলাকা এবং চট্টগ্রামের কলেজ রোড এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারের পদক্ষেপ
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, স্পিড ব্রেকার বসানো এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া যানজট নিরসনে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'যাত্রীরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে যাত্রীদেরও সতর্ক থাকতে হবে এবং নিজেদের গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।'
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ
যাত্রীদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। যেমন: যাত্রা শুরুর আগে গাড়ির অবস্থা পরীক্ষা করে নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ধীরে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিবছর একই চিত্র দেখা যায়। তবে এবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। আশা করা যাচ্ছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।



