আমতলীর ২০ গ্রামে সড়ক পুনর্নির্মাণে স্বস্তি ফিরেছে
আমতলীর ২০ গ্রামে সড়ক পুনর্নির্মাণে স্বস্তি

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: বরগুনার আমতলী উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ একটি সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিকরা স্বস্তি পেয়েছেন।

সড়কের বিবরণ ও পূর্বের অবস্থা

আমতলী সরকারি এ কে উচ্চ বিদ্যালয় (আরএইচডি) থেকে তালুকদার হাট হয়ে গাজীপুর জিসি পর্যন্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এর ফলে প্রতিদিনের চলাচলে ব্যাপক disruption দেখা দেয়।

নির্মাণকাজের ইতিহাস

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আমতলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে এম/এস বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনকে সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পটি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস। তবে প্রাথমিক খনন ও সম্প্রসারণের পর অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে সাইট ছেড়ে চলে যায়। এতে এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে এবং সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়। বর্ষাকালে সড়কটি কর্দমাক্ত ও প্রায় দুর্গম হয়ে পড়ে, যার ফলে প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সড়কের অবনতির কারণে ঘন ঘন দুর্ঘটনাও ঘটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাজ পুনরায় শুরু ও সমাপ্তি

কর্তৃপক্ষের বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও কাজ পুনরায় শুরু করা যায়নি। অবশেষে ২০২৪ সালের জুন মাসে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোগ নেন। তিনি সরাসরি ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে দেন। তার হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয় এবং সম্প্রতি তা সম্পন্ন হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিকরা এই উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়েছেন। চৌরা চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির বলেন, “সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন কাজ শেষ হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” পাটাকাটা গ্রামের কামাল মিয়া বলেন, সড়কে কাদা ও পানি জমে চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক জহিরুল, আনোয়ার, মবিন ও খায়ের মিয়া জানান, আগে সড়কটি বিপজ্জনক ছিল এবং ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটত। তারা বলেন, “নতুন সড়কে আমাদের কষ্ট দূর হয়েছে।”

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

এলজিইডির আমতলীর উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খানের নির্দেশনায় দ্রুত সময়ে স্থগিত কাজ শেষ হয়েছে। আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, সড়কটি আমতলী ও গলাচিপা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে। এর পুনর্নির্মাণে বড় স্বস্তি এসেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কাজের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধের বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি নিজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে উদ্যোগ নেন যাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হয়।