ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেইল ট্রেন ‘কর্ণফুলী’ বুধবার দুপুর ১২টায় ভৈরব স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় রেলওয়ে পুলিশ স্কুলের পোশাক পরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে দেখে। তাদের আটক করে প্ল্যাটফর্মের পুলিশ তথ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য
আটক শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত তিন সেতুর ভৈরব প্রান্তে ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ভৈরবে এসেছিল।
ঘটনার বিবরণ
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা ও নরসিংদী থেকে স্কুলড্রেস পরে শিক্ষার্থীরা ট্রেনে চড়ে ভৈরব ঘুরতে আসে। অনেকে ছাদে ভ্রমণ করে। বিষয়টি অনেকের নজরে পড়েছে এবং নানা আলোচনা চলছে। বিচ্ছিন্নভাবে সতর্ক করলেও এ কাজ বন্ধ হচ্ছে না। আজ একসঙ্গে ৯ জনকে ছাদ থেকে নামতে দেখে পুলিশ আটক করে। তখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে এবং কয়েকজন অভিভাবককে ফোনে জানানো হয়।
শপথ ও উপহার
শেষে শিক্ষার্থীদের ‘স্কুলড্রেস পরে শিক্ষক-অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া আর দূরে কোথাও যাব না। ভুলেও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করব না। কেউ যদি চড়ে, তাকে না চড়ার কথা বলব’—এমন শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ শেষে প্রত্যেকের হাতে একটি কলম তুলে দেওয়া হয়। পরে তারা বেলা ২টা ২০ মিনিটে ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনে বাড়ি ফিরে যায়।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্বীকার করে যে শিক্ষককে না জানিয়ে এমনভাবে ঘুরতে আসা ঠিক হয়নি। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘অনেক দিন ধরে ভৈরবে ঘুরতে আসার ইচ্ছা ছিল। সুযোগ পাচ্ছিলাম না। ছুটি চাইলে ছুটি দেবেন না বলেই আজ সুযোগ করে আমরা কয়েকজন ট্রেনে করে ভৈরবে আসি।’ ছাদে ভ্রমণ করা ঠিক হলো কি না, এমন প্রশ্নে অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী বলে, ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অনেক ভিড়। বাধ্য হয়ে ছাদে উঠতে হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে করে স্কুলড্রেস পরে ভৈরবে শিক্ষার্থী আসার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের ভ্রমণের ঝুঁকি অনেক। আমরা শিক্ষার্থীদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। শপথ পড়িয়েছি। কলম উপহার দিয়েছি।’ কলম উপহার দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কলম দিয়েই শিক্ষার সার্টিফিকেট অর্জন করা যায়। আমার মনে হয়েছে, তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য কলমের চেয়ে আর ভালো উপহার হতে পারে না।’



