অবহেলায় ধ্বংসের মুখে জাজিরার একমাত্র শিশু পার্ক
অবহেলায় ধ্বংসের মুখে জাজিরার শিশু পার্ক

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত একমাত্র শিশু পার্কটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় শিশুদের বিনোদনের এই স্থানটি এখন পরিত্যক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে।

নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ২০ লাখ টাকা

জানা গেছে, সাবেক সরকারের সময়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অর্থায়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলা বিআরডিবি অফিসের পেছনে ৬ থেকে ৮ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছিল পার্কটি।

বর্তমান অবস্থা জরাজীর্ণ

সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের ভেতরে থাকা বেশিরভাগ রাইডই ভেঙে পড়ে আছে। কিছু রাইড মরিচা পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভাঙা সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় পুরো পার্কজুড়েই বিরাজ করছে জরাজীর্ণ অবস্থা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় কম্পিউটার ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন ফকির বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণেই পার্কটির এমন অবস্থা হয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ নিলে পার্কটিকে আবারও সচল করা সম্ভব। এতে শিশুদের জন্য একটি সুন্দর বিনোদনকেন্দ্র ফিরে আসবে। স্থানীয় বাসিন্দা সামসুন্নাহার জানান, কয়েক বছর আগেও তারা শিশুদের নিয়ে পার্কটিতে ঘুরতে আসতেন। কিন্তু এখন সেটি প্রায় পরিত্যক্ত। প্রয়োজনে স্থান পরিবর্তন করে হলেও পার্কটি পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে পার্কটির নিরাপত্তা জোরদারেরও আহ্বান জানান।

বিএনপি নেতার ভিন্ন মত

উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, পার্কের জায়গা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এছাড়া সেখানে কিশোর-কিশোরীদের অসদাচরণ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা বাড়ায় পার্কটি বন্ধ রাখার পক্ষেই তিনি মত দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকার বলেন, বিআরডিবির নিজস্ব কোনো জমি নেই। পার্কটি যে জায়গায় অবস্থিত, সেটি উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।