নারায়ণগঞ্জে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান: হকারমুক্ত শহরের দিকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা
নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে বসা অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করেছে সিটি করপোরেশন। সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সংগঠন, সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। তবে উচ্ছেদ অভিযানের খবর আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়ায়, সকাল থেকেই নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়ক, ডিআইটি, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, সলিমুল্লাহ সড়ক, চেম্বার রোড ও কালিরবাজারসহ প্রধান সড়কগুলোতে হকাররা তাদের মালপত্র সরিয়ে নেয়। ফলে নগরবাসী স্বস্তিতে ফুটপাতে চলাচল করতে পেরেছে এবং ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কে যানজটের সমস্যা কমেছে।
সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি
বিকাল ৩টায় নগরীর চাষাড়া জিয়া হল মিলনায়তনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর আহ্বায়ক নুরুদ্দিন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাছুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি রফিউর রাব্বি, বিকেএমএইএর সহ-সভাপতি সারোয়ার মোর্শেদ সোহেল, হোসিয়ারি সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জের প্রধান সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, তরিককুল সুজন, ফারহানা মানিক মুনা, খেলাফজ মজলিশের আনোয়ার হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের মাছুম বিল্লাহসহ অনেকে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, "নারায়ণগঞ্জ শহরকে হকারমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। নগরবাসীর স্বার্থে শহরকে গ্রিন ও ক্লিন রাখতে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ফুটপাতে আর কোনো হকার দেখতে চাই না। অরাজক পরিস্থিতি আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না। মানুষ ফুটপাতে নির্বিঘ্নে হাঁটতে চায়। ফুটপাতে হকার বসার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, "নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচন করেছে, তাই জনগণের কাছে আমার জবাবদিহি করতে হয়। সব দল ও স্থানীয় মানুষের সমর্থনের কারণে আজ ফুটপাতের হকার মুক্ত করা হয়েছে। তবে আমাদের প্রশাসনকে তৎপর থাকতে হবে যাতে ফুটপাতে আবার হকার বসতে না পারে। অনেকে সন্দেহ করছেন হকার একদিকে উচ্ছেদ হবে, কয়েক দিন পর আবার বসে পড়বে। হকার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। কোনো অবস্থাতেই ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।"
অভিযানের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম
এর আগে সিটি করপোরেশন ১৩ এপ্রিল থেকে শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করার ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। অভিযানে অংশ নিতে দুপুরে বুলডোজার, ডাম্প ট্রাক ও ভেকুসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা চাষাড়ায় জড়ো হন। তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র্যাব, স্কাউট সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিরসন কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সিও নুর কুতুবুল আলমসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন।
এই অভিযানের ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা যাচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শহরকে হকারমুক্ত রাখার জন্য নিয়মিত তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



