যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রকল্পে হতাশা: ছয় বছরে মাত্র ৫ শতাংশ কাজ, জমি অধিগ্রহণে থমকে
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রকল্পে হতাশা: ৫% কাজ, জমি অধিগ্রহণ থমকে

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রকল্প: ছয় বছরে মাত্র ৫ শতাংশ কাজ, জমি অধিগ্রহণে থমকে

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৪৮ কিলোমিটার অংশ ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মারাত্মক গতি নেই। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটারে কাজ হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ, আর ঝিনাইদহ অংশে ৩ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে এখন মাত্র আট মাস বাকি থাকলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় উন্নয়নকাজ থমকে আছে।

জমি অধিগ্রহণই মূল বাধা

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজে ধীরগতির প্রধান কারণ জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া। উইকেয়ার ফেজ-১ প্রকল্পের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, 'জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নির্ধারিত স্থানে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পাওয়া গেছে, সেখানে আংশিক কাজ চলছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি ২০২০ সালে অনুমোদন হলেও ডিজাইন ও ঠিকাদার নিয়োগ করতে প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে।

প্রকল্পের সময়সীমা ও ব্যয় বৃদ্ধি

২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার, ফেজ-১) এর আওতায় যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৪৭.৪৮ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প পাস হয়। প্রাথমিকভাবে চার হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৬২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা

প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কে একটি ফ্লাইওভার, চারটি সেতু, ৫৫টি কালভার্ট, পাঁচটি ভেহিকুলার ওভারপাস, আটটি পেডিস্ট্রিয়ান ওভারপাস ও একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া করিডরকে স্মার্ট হাইওয়েতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম ও অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ডিজাইন করা হবে। পৌর এলাকার মধ্যে চার লেন এবং পৌর এলাকার বাইরে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে মহাসড়কটি।

  • প্রথম লট: ঝিনাইদহ শহরের বাস টার্মিনাল থেকে কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন কলেজ পর্যন্ত ১৫.৯ কিলোমিটার
  • দ্বিতীয় লট: কালীগঞ্জের মাহাতাব উদ্দিন কলেজ থেকে যশোর সদরের মুরাদগড় পর্যন্ত ১৫.৮ কিলোমিটার
  • তৃতীয় লট: সদরের মুরাদগড় থেকে যশোর শহরের চাঁচড়া মোড় পর্যন্ত ১৫.৮ কিলোমিটার

স্থানীয়দের হতাশা ও ভোগান্তি

প্রকল্পের ধীরগতিতে স্থানীয়রা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, 'মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। দীর্ঘ সময়েও অগ্রগতি খুবই কম।' কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহগামী ইজিবাইক চালক রাশেদ উদ্দিন বলেন, 'সড়কটি প্রকল্পের আওতায় যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত মেরামত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ।'

স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদা খাতুনের কথায়, 'প্রতিদিন কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ যেতে হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা এতই খারাপ যে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। আমাদের ছয় লেন দরকার নেই, ভালো সড়ক দরকার।' বর্ষায় খানাখন্দে চরম ভোগান্তি হচ্ছে চলাচলকারীদের। মহাসড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রশাসনের বক্তব্য

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, 'প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান আছে। কিছু জটিলতা থাকলেও তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।' যশোরের জেলা প্রশাসক জানান, ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এবার মৌজা মূল্য অনুযায়ী সরকারি নিয়মে জমির প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণের পর জমি ও স্থাপনার মালিককে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে। তবে মেয়াদ শেষ হতে মাত্র আট মাস বাকি থাকায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।