সিলেটকে পরিষ্কার ও আধুনিক নগরী গড়তে নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন মেয়র
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (এসসিসি) প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী শহরের বাসিন্দাদের একসাথে কাজ করে সিলেটকে একটি পরিষ্কার ও আধুনিক নগরকেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রবিবার বিকেলে নগর ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক এক সভায় সভাপতিত্ব করার সময় এই ডাক দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা
চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি “সবুজ ও পরিষ্কার শহর” গড়ে তোলার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি দায়িত্বই নয়, বরং আমার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা। তবে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করা সম্ভব নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শহরের উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সকলের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
নাগরিকদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
তিনি বাসিন্দাদের জন্য দুটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের রূপরেখা তুলে ধরেন:
- বর্জ্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা
- সময়মতো সকল পৌর কর পরিশোধ করা
চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, “যতই কর্মী নিয়োগ করা হোক না কেন, মানুষ যদি ইচ্ছামতো আবর্জনা ফেলে, তাহলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যাবে না। একইভাবে, কর নিয়মিত পরিশোধ না হলে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হবে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কর রাজস্ব শহরের অবকাঠামো ও সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সিলেটের বৈশ্বিক সুনাম ও প্রবাসীদের প্রত্যাশা
সিলেটের বৈশ্বিক খ্যাতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক প্রবাসী—যারা সুপরিকল্পিত ও পরিষ্কার শহরে অভ্যস্ত—তাদের নিজ শহরের জন্য উচ্চতর মান প্রত্যাশা করেন। চৌধুরী বলেন, “আমরা লন্ডনের মতো শহর নকল করতে পারব না, কিন্তু সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের সাধ্যের মধ্যে একটি পরিষ্কার, বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ শহর গড়ে তুলতে পারি।” তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্থানীয় সম্পদ ও নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিলেটকে একটি আদর্শ নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।
এই সভায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধি, পৌর কর্মকর্তা ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। চৌধুরী ভবিষ্যতে আরও বেশি সম্প্রদায়ভিত্তিক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান, যাতে নাগরিকরা সরাসরি অংশ নিতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেট শীঘ্রই একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই শহরে পরিণত হবে।



