মাদক ও অশ্লীলতার অভিযোগে চাঁদপুরের সোলায়মান লেংটার মেলা বন্ধ ঘোষণা
মাদক অভিযোগে চাঁদপুরের লেংটার মেলা বন্ধ

মাদক ও অশ্লীলতার অভিযোগে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মেলা বন্ধ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর গ্রামে শুরু হওয়া সোলায়মান লেংটার মেলায় মাদক কেনাবেচা, সেবন এবং অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন মেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করেছে। মতলব উত্তর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত

প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সাত দিনব্যাপী এই মেলার কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডল মেলা প্রাঙ্গনে মাইকে ঘোষণা করেন যে, মাগরিব নামাজের পর মেলাটি বন্ধ করা হবে।

তবে বুধবার রাতে মেলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লক্ষাধিক মানুষের ভিড়ে মেলা চলছে। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নানা কার্যক্রম, পসরা সাজিয়ে বেচাবিক্রি এবং মাজার এলাকায় আশেকান-ভক্তের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মাজারের পশ্চিম দিকে পুকুরের পাড়ে, বাগানে ও বেড়িবাঁধ এলাকায় গাঁজা-মদ সেবন ও বিক্রির জমজমাট আসর বসেছে। মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আগের মতোই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেলার ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

স্থানীয়রা জানান, বদরপুর এলাকার পীর ও সাধক হজরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.), যিনি ‘লেংটা বাবা’ নামে পরিচিত, বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মারা যান। তার স্মরণে প্রতিবছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে মেলা ও বার্ষিক ওরসের আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত। অন্যান্য বছরে এই সাত দিনের মেলায় ১৫ লাখের বেশি লোকের সমাগম হতো।

এবছর মেলায় অন্তত দুই সহস্রাধিক গাঁজার দোকান এবং অর্ধশতাধিক নারীদের অশ্লীল নৃত্যের জমজমাট আসর বসেছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদরপুর এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মেলার নামে দিনে-রাতে মাদক ও অশ্লীল নাচগানের আসর বসছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ও চলমান সমস্যা

মেলা এলাকার দুই শতাধিক স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের জমজমাট আড্ডা চলছে, যা মেলা ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। নেশাগ্রস্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা, এবং সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ঘোষণার পরও মেলা কার্যক্রম আগের মতো চলছে, যেখানে লাখ লাখ টাকার মাদকের ব্যবসা চালু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এবং মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।