ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ
ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি, ইসিকে চিঠি

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই এবার তিনটি মহানগরীর ভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

চিঠি প্রাপ্তি ও কমিশনের প্রস্তুতি

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে তারা জানিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়াদ শেষের তারিখ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসেবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনগত বাধ্যবাধকতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।’ তার মতে, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ের ভোট প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।

পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এখন আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অন্যান্য লজিস্টিক বিষয়ে কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নির্বাচনগুলো স্থানীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।