ময়মনসিংহের মেরেঙ্গা বাজারে পশু হাটে যানজট: জনদুর্ভোগের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পশু বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাট হিসেবে পরিচিত মেরেঙ্গা বাজার। এই বাজারটি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত, যেখানে প্রতি রবিবার পশু হাট বসে। হাটের দিনে পশু বেচাকেনার একটি অংশ সরাসরি মহাসড়কের ওপর চলে আসে, ফলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজটে বাসযাত্রী, চালক ও পথচারীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
যানজটের মূল কারণ ও সরেজমিন পরিস্থিতি
সরেজমিনে মেরেঙ্গা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে যানজট লেগে আছে। যানজটের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়ে পশুবাহী পিকআপ থামিয়ে পশু নামানো হচ্ছে। এভাবে শত শত যানবাহন থেকে পশু নামানোর সময় মহাসড়কে যানজট বেঁধে যায়। দুই দিক দিয়ে চলাচল করা আন্তঃজেলার যানবাহনগুলোকে হয় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, নয়তো ধীরলয়ে চলতে বাধ্য হয়।
বাজারের লোকজন জানান, হাটবার ছাড়া মেরেঙ্গা বাজার বা বাস স্ট্যান্ডে আন্তঃজেলার যানবাহনগুলো থামে না। পথচারীরা তখন পায়ে হেঁটে দুই মিনিটে বাজারটি অতিক্রম করতে পারেন। মেরেঙ্গা বাজারটি নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউনিয়নে অবস্থিত। বাজারটি ২ কোটি টাকার বেশি মূল্যে ইজারা ডাক হলেও বাজারের পরিধি খুবই ছোট, যা সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
হাটের জনপ্রিয়তা ও পরিধির সীমাবদ্ধতা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঈদকে কেন্দ্র করে কোনোরকম ইজারা ডাক ছাড়াই মেরেঙ্গা বাজারে পশু বিক্রির হাট বসাতেন। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় যানবাহনে করে পশু পরিবহন করে মেরেঙ্গা বাজারে আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে হাটটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা পরে সরকারি ইজারা ডাকের আওতায় আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, আগের তুলনায় ক্রেতাবিক্রেতা আগমনের হার শত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারের পরিধি সেই অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে হাটের দিন গরুর ভিড় মহাসড়ক পর্যন্ত উঠে যায়। গরুবাহী শত শত যানবাহন মহাসড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, যা দুই লেনের সড়কটি সরু করে দেয় এবং দুই পাশ থেকে যানজটের সৃষ্টি করে।
পরিবেশগত সমস্যা ও ঝুঁকি
এছাড়া হাটের দিন গরু-ছাগলের পয়ঃবর্জ্যে সড়ক জুড়ে এক নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়। সড়কটি তখন পিচ্ছিল হয়ে যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কয়েক জন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটের চারপাশে গ্রামের লোকজনের কৃষিজমি রয়েছে, যেখানে পশু রাখার সুবিধা নেই। তাই বাজারের ভেতর বা সড়কের কাছাকাছি গরু রাখতে হয়, যা যানজট ও পরিবেশ দূষণকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
পরিবহন খাতের উপর প্রভাব
বাস ও কয়েক জন ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতি রবিবার মেরেঙ্গা বাজারের গরুর হাটের জন্য তীব্র যানজট দেখা দেয়। এ কারণে বাসের টাইম ঠিক রাখা সম্ভব হয় না, যা যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত অসুবিধা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মেরেঙ্গা বাজারের ইজারাদার মো. মারুফকে পাওয়া যায়নি, যা সমস্যা সমাধানে বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, কিছুদিন আগে ইজারাদারকে ডেকে এনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। নতুন বছরে মেরেঙ্গা বাজার ইজারা দেওয়ার সময় হাটের কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না মর্মে শর্ত উল্লেখ করে দেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেখা যায়নি, এবং জনদুর্ভোগ বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে।



