বগুড়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক উত্তরকোণ’ পত্রিকায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যদের জড়িয়ে ‘ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা প্রকাশিত পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল চেয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
আবেদন দাখিল
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বগুড়া শহরের চারমাথা ভবের বাজার এলাকার আবুল কালাম আজাদ ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিহারহাট এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম সুমন পৃথকভাবে এ আবেদন করেন।
সংবাদে কী ছিল?
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু প্রকাশিত ও তার ছেলে শাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয় সম্পাদিত ‘দৈনিক উত্তরকোণ’ পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়/ ঢাকার ডিসি নিয়োগে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন, একই সিন্ডিকেট জড়িত’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ (পিএস) মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়ানো হয়। এখানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে ‘বহুল আলোচিত’ ও ‘সুপার পাওয়ারফুল’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সিন্ডিকেটেরই একজনের আপন মেয়ের জামাই, জুডিশিয়াল ক্যাডারের সদস্য, বর্তমানে যিনি আইন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে আছেন, তার মাধ্যমেই এই টাকার লেনদেন হয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য
আবেদনকারীরা দাবি করেন, প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র বা দালিলিক প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। যা পেশাগত সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদটি প্রচলিত আইন ও ডিক্লারেশন নীতিমালার লঙ্ঘন দাবি করে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর তার কাছে দৃষ্টিকটূ মনে হয়েছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেই তিনি ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করেছেন।
অপর আবেদনকারী আনোয়ারুল ইসলাম সুমন বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটি ভিত্তিহীন। সরকার যখন দেশ গঠনে কাজ করছে, তখন একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হেয় করার চেষ্টা করছে।
মামলার সম্ভাবনা
মামলার পরিবর্তে ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করা প্রসঙ্গে অভিযোগকারীরা জানান, তারা পরে মামলাও করবেন।
পত্রিকার সম্পাদকের মন্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘দৈনিক উত্তরকোণ’ পত্রিকার সম্পাদক শাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয় তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তারা এই মুহূর্তে কোন মন্তব্য করতে চান না।
জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন ও নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন।



