নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুবিধাবঞ্চিত নয়টি পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে সেমিপাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে উপকৃত হবে নৃ-গোষ্ঠীর নয়টি পরিবার।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লেংগুরা ইউনিয়নের বালুচড়া গ্রামে উপকারভোগী পুলিনুস রেমার ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কলমাকান্দা উপজেলার একমাত্র নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেত্রী সন্ধ্যা নারী সাংমা।
বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্ধ্যা নারী সাংমা বলেন, এই ঘর নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনে আমাকে সম্পৃক্ত করে সম্মানিত করায় আমি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জন্য সরকার যে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর জন্য আমি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, আমরা দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন চাই। দেশের মানুষের কল্যাণে সরকার যেন সফলভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি। এক সময় দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম; কিন্তু এখন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হতে দেখে আশা ফিরে পেয়েছি।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, সমাজসেবক মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রকল্পের বিবরণ
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ কর্মসূচির আওতায় কলমাকান্দা উপজেলায় মোট ৯টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে থাকবে ২টি শয়নকক্ষ, ১টি বারান্দা, ১টি রান্নাঘর ও ১টি টয়লেট। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘরের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যাতে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমি কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্থায়ী বাসস্থানের সুযোগ পাবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



