বৈষম্য দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ’। একই সঙ্গে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি উত্থাপন
সোমবার (১ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু।
চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর অবস্থা
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নদী বিধৌত বাংলাদেশে ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের মূলধারা থেকে এখনও বিচ্ছিন্ন এবং বঞ্চিত।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে চরাঞ্চলের মানুষের বঞ্চনা লাঘব, নদী ভাঙন রোধ, পুনর্বাসন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতসহ সব ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের চিত্র
কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলের জীবন-জীবিকার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। জেলায় প্রায় চার শতাধিক চর রয়েছে। আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব চরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত জীবনযাপন করছে। চরের নারী ও শিশুদের জীবন অত্যন্ত নাজুক। তারা সমাজের মূল ধারার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদেরকে মূল ধারায় একীভূত না করে দেশে সমতার উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার
জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) বরাতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ বছরে নদীভাঙনের কারণে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু বসতভিটাই হারায়নি, জীবিকা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাও হারিয়েছে। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় অভিবাসী হচ্ছে। এসব সংকট দূর করতে ‘বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ’ সাত দফা দাবি তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
সংগঠনের সভাপতির বক্তব্য
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য এখনও কোনও স্থায়ী ও সমন্বিত নীতিমালা নেই। ফলে হাজার হাজার পরিবার প্রতিবছর নতুন করে দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়েছে। দেশের উন্নয়নের নানা সূচকে অগ্রগতির কথা বলা হলেও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ভৌগলিক বাস্তবতায় চরবাসীর উন্নয়নকে সাধারণ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, পৃথক ও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এ জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও বাজেট সময়ের দাবি।’
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহ-সভাপতি খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, সহ-সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক নাজমুন নাহার বিউটিসহ সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



