কক্সবাজার ভূমি অফিসে স্বজনপ্রীতি: এক পরিবারের ৫ পদ দখল
কক্সবাজার ভূমি অফিসে স্বজনপ্রীতি: এক পরিবারের ৫ পদ দখল

কক্সবাজার জেলার ভূমি অফিসগুলোতে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের দৌরাত্ম্য ও একটি কথিত সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর চক্রটি নিজেদের ইচ্ছামতো বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের পদদখল

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এমএলএসএস নাজমুল এই কথিত সিন্ডিকেটের মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তার পরিবারের আরও চার সদস্য জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। এদের মধ্যে রয়েছেন নাজমুলের বোন খালেদা বেগম (চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা), আরেক বোন কোহিনুর আক্তার (চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা), কোহিনুরের স্বামী ছৈয়দ নুর (কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা) এবং আত্মীয় ইকবাল হোসেন (চকরিয়া চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমএলএসএস)।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের দাবি

অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন নিশ্চিত করছে। বিশেষ করে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে একই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ চক্রের বাইরে কোনো ফাইল কার্যত নড়ে না। ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন এবং প্রতিবাদ করলে বদলি বা হয়রানির শিকার হতে হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খালেদা বেগমের আপত্তিকর মন্তব্য

এদিকে চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা খালেদা বেগমের একটি মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) চকরিয়া ভূমিসেবা মেলায় তিনি এক সাংবাদিককে উদ্দেশ করে ভূমিসেবা মেলাকে ‘ভূমি ছেঁদা মেলা ও নিজেকে কর্মকর্তা নয় কর্ম-কুত্তা’ বলে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব জানান, বিষয়টি জানার পর খালেদা বেগমকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় ভূমি প্রশাসনে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।