বগুড়ার শিবগঞ্জে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের লিজ নেওয়া জমিতে নির্মিত বাড়ি ও মার্কেট একদিনের নোটিশে ভেঙে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে শিবগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত স্কুল মার্কেটের ৩০টির বেশি দোকান ও চারটি বাড়ি এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে কী কী স্থাপনা ছিল?
উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি আজিজুল হকের বাসভবন ও ১২টি দোকান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তারের বাসভবন ও দুটি দোকান এবং উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের বাসভবন ও দুটি দোকান। অভিযান ঘিরে এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ৪৮ বছর আগে তারা শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কাছ থেকে বিধিমোতাবেক ৪১ শতক জমি লিজ নেন। পরে সেখানে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করেন। নিয়মিত বার্ষিক ফি পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। এমনকি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতিও তাদের ছিল বলে দাবি করেন তারা। তবে গত ১৪ মে হঠাৎ করে বাড়ি ও মার্কেট অপসারণের নোটিশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর দুই দিনের মাথায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়েন।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জমির লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পর নথিপত্র যাচাই করে নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এখানে কার জায়গা আছে, তার ব্যক্তিগত পরিচয় আমরা জানি না। আমাদের কাছে আসা উচ্ছেদ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযান পরিচালনা করেছি।
পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল্যবান জমি দখলের বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আনা হয়। পরে তদন্তে জমি দখলের সত্যতা পাওয়ায় তা উদ্ধার করতে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শনিবার সকাল ৮টা থেকে অভিযান শুরু হয়।



