সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের রায় প্রকাশ

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই রায়টি প্রকাশ করা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই রায়টি লিখেছেন, যদিও এর আগে গত ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ রায়টি দিয়েছিল।

রায়ের মূল বক্তব্য ও প্রভাব

এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান আবার ফিরে এসেছে। তবে, এই বিধান পুনরুজ্জীবিত হলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে এটি প্রয়োগ হতে পারে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। আইনজীবীদের মতে, বর্তমান সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল। পরবর্তীতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলে নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেয় সর্বোচ্চ আদালত। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন সর্বোচ্চ আদালত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারক প্যানেলের তথ্য

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ বিচারক হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম
  • বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  • বিচারপতি মো. রেজাউল হক
  • বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক
  • বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান
  • বিচারপতি ফারাহ মাহবুব

এই রায়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।