কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুই সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইন চেষ্টার শিকার পাঁচ ব্যক্তি টানা সাত দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও এখনো এই জটিলতার কোনো সমাধান হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।
ঘটনার সূত্রপাত ও বর্তমান অবস্থা
সীমান্ত সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তাঁরা বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাঁদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।
তবে ওই ছয়জনের মধ্যে নারী, দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গত বৃহস্পতিবার ভোরের পর থেকে সীমান্তে আর দেখা যায়নি। তাঁরা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় এবং দুই শিশু থাকায় মানবিক বিবেচনায় তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থান করছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া গ্রামের সজীব মিয়া (২৬) ও হিমেল মিয়া।
ভন্দুচর সীমান্তে আরও তিন যুবক
এদিকে ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার ভন্দুচর সীমান্ত দিয়ে ভারতের মানকাচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা আরও তিন যুবককে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেন। বিজিবির বাধার মুখে তাঁরাও বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি এবং শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এই তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের মো. জহিরুল (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মো. পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মো. নাঈম (২২)।
ওই ব্যক্তিদের বরাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ১০ জুন সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে ওই তিন যুবক ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের গৌহাটি এলাকায় ট্রেনে ভ্রমণের সময় তাঁরা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পুলিশ তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
সাত দিনের দুর্ভোগ ও মানবিক সংকট
সব মিলিয়ে রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভন্দুচর সীমান্তের দুই শূন্যরেখায় বর্তমানে পাঁচ ব্যক্তি সাত দিন ধরে অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকায় তাঁদের মানবিক দুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয় লোকজন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “১৪ জুন থেকে রৌমারী সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার নয়জন ব্যক্তির মধ্যে দুই শিশুসহ চারজনকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সীমান্তে আর দেখা যাচ্ছে না। বাকি পাঁচজন এখনো সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।”



