প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সেখানে যাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
প্রস্থান ও বিদায়
রবিবার (২১ জুন) বিকাল পৌনে ৩টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারা। এ সময় তাদের বিদায় জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
সফরসঙ্গী ও প্রতিনিধিদল
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। প্রতিনিধিদলে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন।
চীন সফর ও চুক্তি
মালয়েশিয়া সফর শেষে তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি চীনে যাবেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম শনিবার (২০ জুন) সংবাদ সম্মেলনে জানান, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।
সামার দাভোস ফোরামে অংশগ্রহণ
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নসে’র ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই ফোরামে ৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সফরের লক্ষ্য
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। সফরে মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, 'আমরা এটিকে একটি যুক্তিঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। এই সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারি শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।'
আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।



