মেঘালয়ে কয়লা কোয়ারিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত, মরদেহ সুনামগঞ্জে
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার এক বাংলাদেশি শ্রমিক মেঘালয়ে একটি কয়লা কোয়ারিতে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মজিবুর রহমান (৩৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মজিবুর রহমান তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাকমা গ্রামের আলতু মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বালিয়াঘাট সীমান্ত এলাকা দিয়ে মজিবুর রহমানসহ কয়েকজন শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে মেঘালয়ের নকলাম এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে একটি কয়লা কোয়ারিতে কাজ করছিলেন তাঁরা।
গতকাল দুপুরে কয়লা উত্তোলনের সময় হঠাৎ কোয়ারির ভেতরে ওপর থেকে কয়লা ধসে পড়ে। এতে মজিবুর গর্তের ভেতরে আটকা পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকেরা দ্রুত বের হতে পারলেও মজিবুরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে সহকর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
মরদেহ ফেরত ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
খবর পেয়ে স্বজনেরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের ওপার থেকে মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর রাত আটটার দিকে তাহিরপুর থানা-পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, "লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।"
সুনামগঞ্জে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, "অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কয়লার কাজে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ঝুঁকি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্তের বালিয়াঘাট এলাকা দিয়ে লাকমা গ্রামের লোকজন অবৈধভাবে মেঘালয়ে প্রবেশ করে কয়লা উত্তোলনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব কাজে অংশ নিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাঁরা।
এই ঘটনা বাংলাদেশি শ্রমিকদের সীমান্তের ওপারে কাজের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



