কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় সাত জন শ্রমিক নিহত এবং আরও ছয় জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও আহতরা সবাই দিনাজপুর জেলার বোরো ধান কাটার শ্রমিক ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
দুর্ঘটনার সময় দিনাজপুর থেকে একটি চালবোঝাই ট্রাকে করে ১৩ জন শ্রমিক নোয়াখালীর দিকে কাজের সন্ধানে যাচ্ছিলেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, ভাড়া কমানোর উদ্দেশ্যে শ্রমিকরা ট্রাকের ওপরে বসে যাত্রা করেছিলেন। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই সাত জন নিহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিপুর গ্রামের আবজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০), আবু সালেক (৪২); বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের সুমন মিয়া (২১), বিষু মিয়া (৩৪), আবু হোসেন (২৯) এবং আবদুর রশিদ (৫৮)। তাঁদের সবার বাড়ি দিনাজপুরে।
আহতদের চিকিৎসা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
আহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন আমির আলী (৪৫), তরিকুল ইসলাম (৫০), জালাল হোসেন (৩৭), মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮) ও জাহাঙ্গীর আলম (৪০)। তাঁদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ আরেক আহত ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নয়ন দে জানান, আহত পাঁচজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক এবং তাঁদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
আজ মঙ্গলবার সকালে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্বজনদের বক্তব্য
নিহত সোহরাব হোসেনের ভগ্নিপতি জসিম উদ্দিন সকালে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় এসে বলেন, "নিহত ব্যক্তিরা সবাই ধান কাটার শ্রমিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সোহরাব আমার স্ত্রীর বড় ভাই। কাজের উদ্দেশ্যে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন তাঁরা। সোহরাব পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, তাই এই দুর্ঘটনা পরিবারের জন্য মারাত্মক আঘাত।"
এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং শ্রমিকদের ভ্রমণ অবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।



