শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযানে সোয়া দুই কোটি টাকার পণ্য জব্দ
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে সোয়া দুই কোটি টাকার মূল্যের তৈজসপত্র, ওষুধ এবং মদ জব্দ করেছে। এই অভিযানটি সোমবার (১৩ এপ্রিল) পরিচালিত হয় এবং বিভিন্ন ফ্লাইট থেকে আগত যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ
জব্দকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫৪ কেজি রুপার ব্যবহৃত তৈজসপত্র, ২৫ হাজার ৯৩৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ এবং ১৬ লিটার মদ। এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫৪ টাকা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ করা মালামাল সংশ্লিষ্ট কাস্টম হাউসে জমা করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন ফ্লাইট থেকে জব্দের ঘটনা
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রোম থেকে আগত ফ্লাইট বিজি-৩৫৬ এর যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৫৪ কেজি রুপার ব্যবহৃত তৈজসপত্র ও ভাঙা অংশ জব্দ করা হয়। এই রুপার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৬২ লাখ তিন হাজার ৭০০ টাকা। অপরদিকে, তুরস্ক থেকে আগত টিকে-৭১২ ফ্লাইটের যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যান করে প্রাথমিকভাবে আমদানি নিয়ন্ত্রিত ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাগেজ ইনভেন্টরি করে ২৫ হাজার ৯৩৫ পিস বিভিন্ন প্রকার বিদেশি ওষুধ জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ৬৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৪ টাকা।
অতিরিক্ত জব্দকৃত পণ্য
এছাড়াও, কাতার থেকে আগত কিউআর-৬৩৮ ফ্লাইটের তিন জন যাত্রীর কাছ থেকে ১৬ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য তিন লাখ ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি, গুয়াংজু থেকে আগত ফ্লাইট বিজি-৩৬৭ এর দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২টি নতুন মোবাইল ফোন ও মোবাইলের যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর নিয়মিতভাবে এমন অভিযান চালিয়ে আসছে, যার মাধ্যমে অবৈধ পণ্য আমদানি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এই ঘটনাটি বিমানবন্দরের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য প্রবেশের চেষ্টা সম্পর্কে সতর্কতা বাড়িয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।



