আবারও নাফ নদীর মোহনায় আরাকান আর্মির হাতে ১৩ জেলে ও তিনটি ট্রলার আটক
আরাকান আর্মির হাতে টেকনাফে ১৩ জেলে আটক

আরাকান আর্মির হাতে টেকনাফে ১৩ জেলে ও তিনটি ট্রলার আটক

মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) সদস্যরা আবারও টেকনাফ, কক্সবাজারের নাফ নদীর মোহনা থেকে ১৩ জন জেলে ও তিনটি মাছ ধরার ট্রলার আটক করেছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে, যখন জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরে টেকনাফে ফিরছিলেন, শাহপরীর দ্বীপের নাইখ্যংদিয়া এলাকার কাছে।

আটককৃত জেলেদের পরিচয় ও ট্রলার মালিক

আটককৃত ট্রলারগুলির মালিক হলেন শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা কালু ওরফে মোলা হালু, মুস্তাফিজ এবং মীর কাসিম। জেলেদের মধ্যে রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, ফরিদ হোসেন, রবিউল হাসান, কালাম, মো. হোসেন আহমদ, মীর কাসেম আলী, গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, মোল্লা কালু মিয়া, আবু তাহের, আব্দুল খালেক এবং জাবের মিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা সকলেই টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে কর্তৃপক্ষ অপহরণের বিষয়ে অবগত হয়েছে এবং কীভাবে এটি ঘটেছে তা তদন্ত করছে। জেলেদের ফিরিয়ে আনার জন্য সীমান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দা ইবনে আমিন বলেন, "আজ আরাকান আর্মি আবার তিনটি নৌকার ১৩ জন ক্রু সদস্যকে নিয়ে গেছে, যা জেলেদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে। আমাদের পরিবারের কিছু সদস্যও আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, এবং পরিবারগুলি আতঙ্কিত।" শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন যে ১৩ জেলে আটকের খবর স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত দুই বছরের আটকের পরিসংখ্যান

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত দুই বছরে আরাকান আর্মি কমপক্ষে ৫০০ জন জেলে আটক করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন মুক্তি পেয়েছে। সর্বশেষ ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে ফিরে এসেছে, তবে প্রায় ২০০ জন এখনও আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছে। এই ধারাবাহিক আটকগুলি টেকনাফের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও জীবিকার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।