জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিশেষ মোতায়েন
দেশব্যাপী জ্বালানি ডিপোগুলোতে অবৈধ মজুদ রোধ, সরবরাহে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সীমান্তরক্ষী বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বৈশ্বিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক জ্বালানি ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে অবৈধ মজুদের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি সদস্যদের বিশেষভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
মোতায়েনের কাঠামো ও কার্যক্রম
বিজিবি সদরদপ্তরের তত্ত্বাবধানে একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে এই মোতায়েন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউনিট সদরদপ্তর থেকে দূরবর্তী এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
৯ জেলার ১৯ ডিপোতে নজরদারি
বুধবার সকাল থেকে মোট ৯টি জেলার ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে:
- ঢাকায় ১টি ডিপো
- কুড়িগ্রামে ২টি ডিপো
- রংপুরে ৩টি ডিপো
- রাজশাহীতে ৩টি ডিপো
- সিলেটে ২টি ডিপো
- মৌলভীবাজারে ৩টি ডিপো
- কুমিল্লায় ৩টি ডিপো
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি ডিপো
- সুনামগঞ্জে ১টি ডিপো
নিয়মিত মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অফিসারদের নেতৃত্বে মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা অস্থায়ী বেস ক্যাম্প থেকে নিয়মিত মনিটরিং পরিচালনা করছেন এবং কঠোর প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছেন। ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
সীমান্তে জ্বালানি পাচার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা
সীমান্ত অঞ্চলে জ্বালানি পাচার রোধে নদী টহল, চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি তীব্র করা সহ উন্নত টহল কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। স্থল বন্দর ও সীমান্ত চেকপয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহৃত ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের নিয়মিত তদন্ত চলছে।
বিজিবির এই বিশেষ কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



