সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের ও গ্রেফতার
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে হতাহত ও নিখোঁজের ঘটনায় মামলা হয়েছে। নৌ থানা পুলিশ ইতিমধ্যে দুই লঞ্চের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে, যা এই দুর্ঘটনার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার বিস্তারিত তথ্য
শুক্রবার (২০ মার্চ) নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ মিরাজের ভাই সিরাজ ফকির বাদী হয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।” মামলায় বেপোরোয়া গতিতে যান চালানো এবং অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে, যা ঘটনার গভীরতা নির্দেশ করে।
পুলিশ সুপার আরও যোগ করেন, “মামলার পর দুই লঞ্চের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।” এই গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
দুর্ঘটনার পটভূমি ও প্রভাব
এর আগে, গত ১৮ মার্চ সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে সোহেল (২২) নামে এক যুবক প্রাণ হারান। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবা। এছাড়া, এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন সোহেলের বাবা মিরাজ, যা পরিবারের উপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেলেছে।
ঘটনার দিন বিকালে মিরাজ তার ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে একটি ট্রলারে করে মাঝ নদীতে থাকা লঞ্চে উঠতে যাচ্ছিলেন। এই সময় ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ এবং ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মাঝখানে পড়ে ট্রলারটি চাপা পড়ে। এই সংঘর্ষের ফলে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে, যা নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
এই ঘটনা নৌ পরিবহন খাতে নিরাপত্তা নীতিমালা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। পুলিশের দ্রুত মামলা দায়ের ও গ্রেফতার কার্যক্রম আশা জাগাচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গৃহীত হবে।



