বাঁশখালীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৯৫০ কেজি আলুসহ পাচারকারী আটক
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট–সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে ৯৫০ কেজি আলুসহ একটি আর্টিসানাল ট্রলিং বোট জব্দ ও ছয় পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে এই অভিযান চালানো হয়, যা দেশের সমুদ্রসীমায় অবৈধ কার্যক্রম রোধে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় উপজেলার এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট–সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। এই বোটে তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অবৈধ ট্রলিং জাল এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত ৯৫০ কেজি আলু উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত নৌকাটি ছিল নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, যাতে অবৈধ ট্রলিং জাল ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয়
আটককৃত ছয় পাচারকারীরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার মো. আরমান (২৫ বছর), মাহমুদ হোসেন (৬১ বছর), রামুর সাদ্দাম হোসাইন (২০ বছর), মহেশখালীর মো. আবদুল খালেক (১৯ বছর), রবি আলম (৩২ বছর) এবং রিদোয়ান (২৮ বছর)। এই ব্যক্তিরা পাচারকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাদের বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম আজ শুক্রবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জব্দকৃত আলু, ট্রলিং জাল এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের ক্ষতিকর প্রভাব
প্রসঙ্গত, আর্টিসানাল ট্রলিং বোটগুলি সাধারণত কাঠের তৈরি ছোট ট্রলারে অবৈধভাবে ইঞ্জিন লাগিয়ে যুক্ত করা হয় এবং এতে ছোট ফাঁসের ‘বেহুন্দি জাল’ ব্যবহার করা হয়। সাগরে নিষিদ্ধ এসব নৌযান গভীর ও অগভীর সাগরে রেণু-পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য নষ্ট করে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। কোস্টগার্ডের এই অভিযান সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি সক্রিয় উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।



