সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত, আহত ও নিখোঁজের খবর
সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ও নিখোঁজের খবর

সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু, আহত ও নিখোঁজের খবর

রাজধানী ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুইটি লঞ্চের সংঘর্ষের মর্মান্তিক ঘটনায় একজন যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মো. সোহেল, যিনি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক জানান, সংঘর্ষের পর হাসপাতালে সোহেলের লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় সোহেলের শ্বশুর মিরাজ ফকির নিখোঁজ রয়েছেন এবং শাশুড়ি রুবা ফকির আহত অবস্থায় রয়েছেন। আজ সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে কোতোয়ালি থানার ওসি জানিয়েছেন, আহত রুবা ফকিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিখোঁজের বিষয়ে অনিশ্চয়তা

স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের সময় দুজন যাত্রী পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এখনো এই নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিস সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা নিখোঁজের খবরটি সম্পর্কে অবগত আছেন, কিন্তু বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, "নিখোঁজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আমরা সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ নিচ্ছি।" পুলিশও ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঢাকার একটি ব্যস্ত নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত, যেখানে নিয়মিতই লঞ্চ ও নৌযান চলাচল করে। এই ধরনের সংঘর্ষ দুর্ঘটনা নৌপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় নিহত সোহেলের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন গভীর শোকে আচ্ছন্ন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কাজ শুরু করে। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাটি রাজধানীর নৌপরিবহন খাতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষ রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।