হবিগঞ্জের লাখাইয়ে দুই গ্রামে সংঘর্ষে আহত ২৫, পুলিশের তৎপরতা
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সোমবার (৯ মার্চ) দুটি পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ দুটি উপজেলার কাশিমপুর ও মোড়াকরি গ্রামে ঘটে, যেখানে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে ভবিষ্যত সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সংঘর্ষের কারণ ও আহতদের অবস্থা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কাশিমপুর গ্রামে জমি চাষাবাদের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে মাসুদুল হক এবং বাবুল মিয়ার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে জুয়েল মিয়া (৩৫), আনারুল (২২), মাসুদুল হক (৫০), তামিম (১৬), জহিরুল হক (২৬), গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও কালু মিয়া (২৫) উল্লেখযোগ্য। আহতদের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, বেলা ১১টার দিকে মোড়াকরি গ্রামে আব্দুল আওয়াল ও সাইফুল ইসলামের মধ্যে বাইসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। এর জেরে তাদের গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যাতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে আব্দুল আওয়াল (৪০), মন্নান (৩২) ও মহিবুর (৪২) রয়েছেন। তাদের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, দুইটি সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। তিনি উল্লেখ করেন, "বর্তমানে উভয় এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে উভয়পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং ফের সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে।



