রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত একটি ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) ভোরে মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় ছিনতাইকারীরা হামলা চালালে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয় এবং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা পারিবারিক সম্পর্কযুক্ত
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পলাশ ও সাকিব, যারা সম্পর্কে আপন ভাই। তারা গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার হেমাদিঘী এলাকার লোকমান সরকারের ছেলে। গ্রেফতার হওয়া তৃতীয় সদস্য বিপ্লব হোসেন তাদের আপন বোন জামাই। অর্থাৎ পুরো চক্রটি মূলত একটি পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
পুলিশের নজরদারি ও ধাওয়া
রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি প্রশাসন) মীর আসাদুজ্জামান জানান, রবিবার রাত থেকেই এই মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্রকে ধরতে পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। ভোরে ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় ছিনতাই করার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে তারা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে মোহাম্মদপুরের দিকে পালিয়ে যায়।
টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়লে এক ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। চক্রের মোট ৫ সদস্যের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, খেলনা পিস্তল এবং ছিনতাই করা ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারও ছিলেন ভুক্তভোগী
পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিনও এই চক্রের কবলে পড়েছিলেন। তিনি জানান, গত শনিবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে অটোরিকশা দিয়ে ফেরার সময় একটি কালো মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারী গ্রেফতারের খবর পেয়ে তিনি সোমবার থানায় এসে তাদের শনাক্ত করেন।
ছিনতাই চক্রের কার্যক্রম ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মোটরসাইকেলে দাপিয়ে বেড়াতো এবং সুযোগ বুঝে ব্যাগ বা মোবাইল ফোন টান দিয়ে নিয়ে যেতো। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ ছিনতাইকারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পালিয়ে যাওয়া বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



