যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের করা বাণিজ্যচুক্তিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশালমিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
মশালমিছিলের পথ ও সমাবেশ
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে গতকাল শুক্রবার রাতে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ভিসি চত্বর, হলপাড়া হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিল শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা ‘বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করো’, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই হবে একসাথে মার্কিনিদের বিরুদ্ধে’–সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা
সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সভাপতিত্বে বিভিন্ন ছাত্র ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ। বক্তারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিটি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং এতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। তাঁরা দ্রুত এটি বাতিলের দাবি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা বলেন, চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশের শিল্প, কৃষি ও ব্যবসার জন্য হুমকি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাত হাজার পণ্য বিনা শুল্কে আমদানি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশীদ এটিকে ‘গোলামির চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের আহ্বান জানান।
আরও বক্তব্য
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা চুক্তিটিকে দেশ বিক্রির চুক্তি বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকের ভবিষ্যৎ এই চুক্তির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে বিক্রি করা হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, এটি কোনো চুক্তি নয়, বরং একটি আদেশনামা। তাঁর দাবি, এতে ১৩১টি শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর মতো সংকটের সময়েও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সমরাস্ত্র কেনার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের অনুরাভ আশরাফ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার।



