যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের ওই ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন বহুতল মার্কেটের সামনে এক দুর্বৃত্ত তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর পরিচয়
নিহত ব্যবসায়ী হলেন আনিছুর রহমান (৬৮)। তিনি নওয়াপাড়া বাজারের সার, খাদ্যশস্য, কয়লা ও সিমেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন।
প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ
আনিছুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নওয়াপাড়া বাজারের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদের ঘাটগুলোতে কার্গো ও বার্জ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজও বন্ধ আছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় আনিছুর রহমান নওয়াপাড়া পীরবাড়ি মাদ্রাসার পাশে তাঁর মালিকানাধীন বহুতল মার্কেট আনিছ ট্রেড ভ্যালির সামনে বসে ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শাহ মো. মাহমুদ (৪০) নামের এক ব্যক্তি সেখানে এসে অতর্কিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনিছুরের মুখের বাঁ পাশের কপাল ও গালে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
প্রতিবাদ ও দাবি
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, আনিছুর রহমানের হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নওয়াপাড়ার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। ভৈরব নদের ঘাটে ও গুদামে ওঠানো-নামানোর কাজও বন্ধ আছে।
পুলিশি তদন্ত
অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মুখের বাঁ পাশের কপাল ও গালে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন আছে। তবে কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাহ মো. মাহমুদকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



