মায়ামাঠের ফুটবল বন্ধ: বিটুর বুট উড়ে গাছে আটকে কাকের দখল
মায়ামাঠের ফুটবল বন্ধ: বিটুর বুট উড়ে গাছে আটকে কাকের দখল

মায়ামাঠে ফুটবল খেলার সময় বিটুর ডান পায়ের বুট শট নেওয়ার সময় উড়ে গিয়ে আমগাছের ডালে আটকে যায়। বুটের ভেতর থেকে দুমড়ানো কাগজ বেরিয়ে পড়ে, যা দেখে সবাই অবাক হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিটুর বড় সাইজের বুট পরার কারণে, যা তিনি পাড়াতো মামার কাছ থেকে ধার এনেছিলেন। পায়ে আটানোর জন্য বুটের ভেতর কাগজ ভরে নিয়েছিলেন তিনি।

খেলায় নামার অনুরোধ ও বুটের ব্যবস্থা

বিটু দূর থেকে করিম ভাইয়ের কাছে ছুটে এসে বলল, ‘আমাকে আজ খেলায় নিতেই হবে। না করতে পারবেন না। বুট ছিল না বলে এত দিন খেলায় নেননি। এই দেখুন, আমি বুট পরে এসেছি।’ করিম ভাই বিটুর বুটের দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে ফেললেন। তিনি অবাক হয়ে বিটুর চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোত্থেকে কিনেছ?’ বিটু বলল, ‘কিনিনি। পাড়াতো মামার বুট। ধার এনেছি। খেলা শেষে আবার ফেরত দিয়ে আসব।’

করিম ভাই বললেন, ‘কিন্তু তোমার পায়ের থেকে তো বুটের সাইজ অনেক বড়। পায়ে আঁটালে কীভাবে? অসুবিধা হচ্ছে না?’ বিটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ‘প্রথমে কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল। ব্যবস্থা করে নিয়েছি।’ করিম ভাই জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ধরনের ব্যবস্থা?’ কিন্তু জবাব শোনার আগেই খেলা শুরুর বাঁশি বেজে গেল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাঠে অতিরিক্ত খেলোয়াড় ও গোল

করিম একাদশ ও রহিম একাদশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরু হয়। তবে করিম একাদশের বারোজন খেলোয়াড় মাঠে দাবড়ে বেড়াচ্ছিল, যা কেউ খেয়াল করেনি—এমনকি রেফারিও নয়। করিম ভাই বিটুকে মাঠে দেখে চমকে গিয়ে জানতে চান, ‘মাঠে কী করছিস?’ বিটু বলল, ‘খেলছি।’ করিম ভাই বললেন, ‘খেলছি মানে? তুই তো একাদশে নেই। মাঠে নেমেছিস কেন?’ বিটু জবাব দিল, ‘এত কষ্ট করে বুট জোগাড় করেছি কি মাঠের বাইরে থাকার জন্য?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

করিম ভাই রাগে চোখ লাল করে বললেন, ‘শিগগির মাঠ থেকে বেরিয়ে যা বলছি!’ কিন্তু বিটু বলল, ‘আপনি আমাকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে বলার কে? ওটা রেফারির কাজ। তা ছাড়া ওদের এগারোজনের বিপক্ষে আমরা বারোজন। বিষয়টা...’ করিম ভাই গর্জে উঠলেন, ‘মাঠ থেকে বেরোবি? নাকি রেফারিকে জানাব?’ বিটু ফিসফিস করে বলল, ‘আমার কিছু হবে না। আপনি দলের ক্যাপ্টেন; আপনিই ঝামেলায় পড়বেন।’ করিম ভাই হাত নামিয়ে ফেললেন এবং চাপা রাগে বললেন, ‘আমাকে হুমকি দিচ্ছিস? তোকে আমি দেখে নেব, মনে রাখিস!’

বিটু করিম ভাইয়ের হুমকি উপেক্ষা করে বলের খোঁজে তাকায়। তখনই বল তার বুটের দিকে এগিয়ে আসে। বল পেয়ে বিটু ছুট দেয় রহিম একাদশের গোলপোস্টের দিকে। কিন্তু রহিম একাদশের ডিফেন্ডার জসিম তাকে বাধা দেয়। জসিমের পা অসম্ভব শক্তপোক্ত; একবার তার পায়ের ঠোকা খেয়ে টানা দুই মাস মাঠেই নামতে পারেনি বিটু। জসিম পুরোনো কৌশলে বিটুর পায়ে লাথি কষালেও বিটু তা এড়িয়ে গিয়ে শাঁই শাঁই করে এগিয়ে যায়। দর্শকসারি থেকে উল্লাসধ্বনি ভেসে আসে, ‘শাবাশ, বিটু! শাবাশ!’

বিটু ডান বুটে তুমুল শট হাঁকাল রহিম একাদশের গোলপোস্টে। বল সোজা গোলপোস্টের ভেতরে ঢুকে পড়ে, আর বিটুর ডান পায়ের বুট রকেটের গতিতে উড়াল দেয় আকাশে। বল কোথায় গেল তা কেউ খেয়াল করে না; এমনকি রেফারিও গোলের বাঁশি বাজাতে ভুলে যান। সবার চোখ বুটের দিকে।

বুটের উড়াল ও কাকের আক্রমণ

বুট আকাশে উঠতে উঠতে ডিগবাজি দিতে থাকে এবং ভেতর থেকে দুমড়ানো-মোচড়ানো কাগজ বেরিয়ে প্যারাট্রুপারের মতো নিচে নামতে থাকে। করিম ভাই বুঝতে পারেন, পায়ের চেয়ে বুটের সাইজ বড় হওয়ায় বিটু কাগজ ভরে নিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বুটের উড়াল থামে এবং তা নিচে নামতে শুরু করে। কিন্তু ল্যান্ডিং করতে গিয়ে বুট মাঠের পাশের আমগাছের ডালে ফিতে আটকে ঝুলে পড়ে। মাঠের তেইশজন খেলোয়াড় ও রেফারির চব্বিশ জোড়া চোখ আটকে থাকে বুটে।

বিটু বাঁ পায়ের বুট খুলে দ্রুত গাছে ওঠে, কিন্তু বুটের নাগাল পায় না। মোটা ডালের মাথায় চিকন ডালে আটকে আছে বুট। বিটু ডাল ঝাঁকাতে থাকলে গাছের কাকেরা ক্বা ক্বা করে হাঁকডাক শুরু করে এবং বিটুর মাথায় ঠোকর দেওয়ার চেষ্টা করে। নাস্তানাবুদ হয়ে বিটু গাছ থেকে নেমে আসে।

করিম ভাই ফুটবল হাতে বুট আটকে থাকা ডাল লক্ষ্য করে কিক মারেন, কিন্তু বল গাছের তিন ডালের মোহনায় আটকে যায়। সেখানে তিন জোড়া কাক ডিমে তা দিচ্ছিল। কাকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তারস্বরে ক্বা ক্বা করতে থাকে। তাদের ডাকে আশপাশ থেকে আরও কাক ও ফিঙে ছুটে আসে। কাক আর ফিঙেদের যৌথ আক্রমণে মায়ামাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। সেদিন ও পরদিন কেউ মাঠে ফুটবল খেলতে পারেনি।

মাঠের ফুটবল চিরতরে বন্ধ

তার পর থেকে ওই মাঠে আর ফুটবল খেলা হয়নি। আশপাশ থেকে মাইগ্রেট করা কাক এসে আমগাছে আস্তানা গাড়ে। তারা পুরো আমগাছ দখলে নেয়। একটি বিটকেলে বুটের কারণে মায়ামাঠের ফুটবল শিকেয় ওঠে। কাকেরা বিটুকে ভীষণভাবে মনে রেখেছে; বিটু রাস্তায় বেরোলেই কাকেরা ছুটে এসে তাকে ধাওয়া করে। বিটুর স্বাভাবিক জীবন অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং কাকেরা তাকে ঘরবন্দী করে ফেলে।