‘বডি কন্ট্রাক্ট’ মূলত মানবপাচারের সর্বশেষ ধাপ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানবপাচার ট্যুরিস্ট ভিসায় হয়। তবে বর্তমানে ওমরা ভিসার আড়ালেও মানবপাচার হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অবৈধ পন্থায় বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র, যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত।
কীভাবে কাজ করে বডি কন্ট্রাক্ট?
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে যেতে হলে অভিবাসনেচ্ছু ব্যক্তি যে দেশে যাবেন, সেখানকার হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট এসবের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব ছাড়াই অবৈধ পন্থায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দিতে কাজ করে দালাল চক্রের একটি সিন্ডিকেট। এজন্য তারা প্রতি ব্যক্তির কাছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। এই টাকা নিয়ে তারা এয়ারলাইন্সের কর্মচারী, ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের হাত করে এয়ারপোর্ট পার করে দেয়। একইভাবে ওমরার ক্ষেত্রেও এই জালিয়াতি করা হয়। অর্থাৎ বিদেশগমনেচ্ছুকদের কাগজপত্র শর্ট থাকলেও চক্রটি টাকার বিনিময়ে বিমানবন্দর পার করিয়ে দেয়।
ঝুঁকি ও পরিণতি
এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি থাকে গন্তব্যের দেশের ইমিগ্রেশন থেকে প্রত্যার্পণ করিয়ে দেওয়া। আর কোনোভাবে সেখানে ঢুকে যেতে পারলেও পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
শাহজালালে চক্রের হোতা শনাক্ত
সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতাকে শনাক্ত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি বলছে, চক্রটির অন্যতম হোতা আব্দুল বারী মোল্লা তাদেরই এক কর্মচারী। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যারোড্রাম অপারেটর হিসেবে কর্মরত। চাকরি তার এটা হলেও গোপনে মানবপাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে গড়ে তুলেছেন বিশাল নেটওয়ার্ক।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করে মানবপাচার যে হয়, সেটি বলতেই হবে। কেননা আমরা দেখতে পাই, বিভিন্ন দেশ থেকে ডিপোর্ট হয়ে যাত্রী ফেরত আসতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী পরিবহন করে। যাত্রীর ডকুমেন্টস দেখার আলাদা লোক বা সংস্থা রয়েছে। তারা ওকে করে দিলে এয়ারলাইন্সে উঠে যায় যাত্রী। এদিকে কোনো কর্মী এই ধরনের কাজে জড়িত কিনা, আমরা সেটি খতিয়ে দেখছি। আমাদের বিভিন্ন সংস্থা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।’



