বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমি-জমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক গৃহবধূ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলা ও আসামি
এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- ছালেহ আহম্মদ গাজী, মেহেদী গাজী, রফিকুল গাজী, পাখি বেগম, তামান্না আক্তার ও হুমায়ুন গাজী। একইদিন মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
আহতদের পরিচয়
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা হলেন- আবু মুসা হাওলাদার, তার স্ত্রী সালমা বেগম, সালমার ভাই আলম খলিফা এবং তার ছেলে কলেজশিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম খলিফা। এছাড়া আরও একজন শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছেন।
হামলার বিবরণ
এজাহারে বলা হয়েছে, আবু মুসা হাওলাদার তার কবলাকৃত সম্পত্তিতে বাড়িঘর করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ওই জমির ওপর কাল্পনিক দাবিদার সেজে নানা সময় জবর দখল চেষ্টাসহ হুমকি ধমকি দিয়ে হয়রানি করে আসছে একই এলাকার ছালেহ আহম্মদ গাজী ও তার লোকজন। বুধবার সকালে আবু মুসা তার স্ত্রী বাড়িতে বেড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় ছালেহ আহম্মদ ও তার লোকজন লোহার রড, দা, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে হুমকি ধমকিসহ গালাগালি করতে থাকে। সালমা বেগম গালমন্দ করতে নিষেধ করলে তারা একযোগে হামলা চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, সালমা বেগমের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশের বক্তব্য
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু মুসা বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।



