পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক ইউপি সদস্যকে পা ভেঙে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় মোবাইল ফোনে ইউপি সদস্যকে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডি দায়ের
ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল ইসলাম। অভিযুক্ত ফিরোজ মুন্সি উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
হুমকির ঘটনা
জানা গেছে, বুধবার রাতে আমিনুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন ফিরোজ মুন্সি। পরে ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ইউপি সদস্যকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তার পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফিরোজ মুন্সিকে বলতে শোনা যায়, 'চাঁদা নিই কিনা তুই যে জিজ্ঞাসা করিস, তুই কি মেয়র?' এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুতে এক নারীর ভিডিও ধারণ এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায় তাকে।
ইউপি সদস্যের বক্তব্য
ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, 'এক নারী আমাকে জানিয়েছেন যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ফিরোজ মুন্সি তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। আমি এই কথার ভিডিও ধারণ করি। এর জের ধরেই তাকে ফোন করে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।'
জিডিতে আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রাঙ্গাবালীতে এখনো ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু না হলেও স্থানীয়দের কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন করায় অভিযুক্ত তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন।
অভিযুক্তের অস্বীকৃতি
অভিযোগ অস্বীকার করে ফিরোজ মুন্সি বলেন, 'আমার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিও এডিট করা হয়েছে। এছাড়া ওই নারী ভিডিওতে যে বক্তব্য দিয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি ষড়যন্ত্রের অংশ।'
পুলিশের বক্তব্য
রাঙ্গাবালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, 'ইউপি সদস্যকে মোবাইল ফোনে হুমকির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



