কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশু সন্তানকেও কারাগারে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার হওয়া দুই নারী হলেন একই গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার এবং নেয়ামুল কবিরের স্ত্রী শেফালী বেগম। তাদের সঙ্গে রয়েছে লিজার এক বছর বয়সি শিশু মিম এবং শেফালীর তিন বছর বয়সি শিশু মরিয়ম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছার পর কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফোরকান গুরুতর আহত হন।
পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে পরিবারের সদস্য জালাল উদ্দীন দয়াল অভিযোগ করেন, দুই নারীকে আইনবহির্ভূতভাবে পুরুষ পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে রাতে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ওসি লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশের কাজে বাধা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই নারীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে লিজা আক্তারের এক বছর বয়সি শিশু মিম এবং শেফালী বেগমের তিন বছর বয়সি মেয়ে মরিয়মও ছিল। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



