লোহাগাড়ায় কবরস্থানের মাঝে প্রাচীর নির্মাণ, দখলের অভিযোগ
লোহাগাড়ায় কবরস্থানের মাঝে প্রাচীর, দখলের অভিযোগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শতবর্ষী সার্বজনীন কবরস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে সরকারি বরাদ্দ এনে নির্মিত এই প্রাচীরের মাধ্যমে কবরস্থানকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ দায়ের

মঙ্গলবার (২ জুন) এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উত্তর কলাউজানের শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর জমা দিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী শিহাব উদ্দীন। অভিযোগে কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলানা ইদ্রিস, তার চাচাতো ভাই আবুল বশর ও আনোয়ার হোসেনসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাউজানে খালাদাদ জামে মসজিদ সংলগ্ন সার্বজনীন কবরস্থানটি শতাধিক পরিবারের একমাত্র দাফনস্থল হিসেবে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ থেকে কবরস্থান উন্নয়নের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ আনা হলেও সেই অর্থ দিয়ে কবরস্থানের মাঝখান দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে একটি অংশ নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের দাফন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনাস্থল পরিদর্শন

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের মাঝখানে ইটের প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এ সময় অভিযুক্ত ইদ্রিস চেয়ারম্যান, তার দুই ভাই ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা আপত্তি জানালে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চুনতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের বক্তব্য

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আমাদের খতিয়ানভুক্ত জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করছি। তবে কবরস্থানের মাঝখানে প্রাচীর নির্মাণের কারণ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

প্রশাসনের অবস্থান

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুনতি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সার্বজনীন উন্নয়ন বরাদ্দ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নেই।